Tuesday, January 8, 2019

ছোটগল্প: তৃষিত স্বপ্ন

ছোট গল্প

 তৃষিত স্বপ্ন
✍মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

তোমার তো পছন্দ জাম্বুরা! তা হঠাৎ এতো গুলো কমলা লেবু নিয়ে এলে?

স্ত্রী জমিলা স্বামী কাদের এর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন। কাদের সাহেব বিচক্ষণ লোক। বুদ্ধিমত্তার সহিত প্রতিটি কথার উত্তর দেবার চেষ্টা করেন। বৌ এর হঠাৎ এমন প্রশ্নের উত্তরেও বুদ্ধির ছাপ রাখার চেষ্টা করলেন এবং উত্তর দিলেন।

: জাম্বুরা তো আর কম খেলাম না! এখন কিছুদিন কমলা লেবু খেয়ে দেখি। ভাবতে পারো রেস্ট পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি।

: সব টেস্ট পরিবর্তননের চেষ্টা করো না আবার, তাহলে কিন্তু ঘরের কথা পরে জেনে যাবে।

: তোমার মাথায় তো সারাদিন একই কথা ঘুরপাক খায়। অন্য কিছু ভাববে কি করে?

:আমার পছন্দ সাগর কলা আর তুমি সব সময়ই নিয়ে আসো চম্পা কলা। নিজেরটাই সব সময় বোঝো। আমার পছন্দের দাম দিয়েছো কখনও?

: ওরে বাবা বিধাতার দেয়া রিজিক পছন্দ না করে উপায় আছে?

জমিলা কমোরে কাপড় পেচিয়ে বাজার নিয়ে রান্না ঘরে দিকে চলে গেলেন। কাদের সাহেব স্ত্রীর কাপড় পেচানো কমোরের দিকে তাকিয়ে ক্ষুধার্ত অনুভব করলেন।

: তাড়াতাড়ি করো, অনেক ক্ষুধা লেগেছে।

: খেতে গেলে একটুতেই যার হয়ে যায়, তার আবার ক্ষুধা লাগার কি আছে! (স্ত্রী জমিলা কিচেন থেকেই বিরক্তি নিয়ে উচ্চ স্বরে বললেন।)

কাদের সাহেব কয়েক বার এসে স্ত্রীকে দেখে গেলেন। জমিলা বেগম রান্না বান্না করছেন। স্বামীর ঘন ঘন কিচেনে আসাটা পছন্দ করছেন না। আবার যখন এলেন কিছুটা রাগ আর বিরক্তি নিয়ে বললেন-

: এতো ঘন ঘন কিচেনে আসার কি হলো? আমি তো আর এখানে আয়োজন করে বসে নেই।

:আহা রাগ করো কেন? শুক্রবার, বাসায় বসে আছি, তাই ক্ষুধাটা একটু বেশী।

: বেশী ক্ষুধা ভালো না। বয়স হয়েছে, ক্ষুধাকে নিয়ন্ত্রণ করো।

: কি বলো! চল্লিশ প্লাস কোন বয়স হলো? এই বয়সে ইংলিশ মুভিতে ছেলেরা নায়কের অভিনয় করে।

: ওরে আমার হিরো আলম। ইংলিশ মুভির নায়ক! ধরার আগে ক্ষয়ে পরে, তার আবার নায়ক হবার শখ!

: তুমি কিন্তু আক্রমণ করে কথা বলছো। একটু সংযত হও, ছেলে মেয়ে বাসায়!

: কেন চুপ থাকবো? ওরা বড় হয়েছে। এখন জানুক ওদের মা সারা জীবন কীভাবে বঞ্চিত হয়েছে।

মিঃ কাদের সাহেব এবার আর কিচেনের আশেপাশে এলেন না, সোজা রুমে ঢুকে খাটে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লেন।

মেয়ে পল্লবী ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়ে। উচা লম্বা আর স্বাস্থ্যের গঠনের কারণে সবাই বয়সের চেয়ে বড় মনে করেন। বাসায় প্রায়ই বিয়ের সমন্ধ আসে। মিঃ কাদের সাহেব এ নিয়ে আগ্রহ দেখালেও জমিলা বেগম আগ্রহী না। মা জমিলার কথা হলো লেখা পড়া শেষ করবে এরপর বিয়ে। পল্লবী মায়ের কথাতেই সায় দেয়।

কলেজে পল্লবী বেশ পরিচিত। সিনিয়র ভাইয়েরা একে ওকে দিয়ে প্রস্তাব পাঠায়, ফোন নম্বর শেয়ার করে। ফেসবুক আই ডি চায়। বান্ধবীরাও এই নিয়ে পল্লবীকে একটু খোঁচায়। কেউ কেউ সিনিয়রদের হয়ে ওকালতি করে। খুব ক্লোজ বান্ধবী সোমা তো একদিন সজলের কথা বলেই ফেলে।

:পল্লবী সজল কতো স্মার্ট এবং সুদর্শন, তুই ওকে অনন্ত ভেবে দেখতে পারিছ।

: বন্ধু স্মার্ট আর সুদর্শন ব্যাপারটা বাহ্যিক, অন্তর্গত দিক তুই কতোটুকু জানিছ?

:ঠিক আছে, ওর সাথে মিশে সেটা বোঝার চেষ্টা কর।

:থাক, আজ কালকার ছেলেদের সাথে একটু মিশতে গেলেই রাতে ফেসবুকের ইনবক্সে গল্পের নামে আজাইরা কথা জুড়ে দেয়, এর মধ্যে এমন কিছু শব্দ থাকে যা ভদ্রতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়।

:ইশ একটু ফান মজা দোষের কি?

:একটুও দোষের না। দোষটা হলো ফান এর চেয়ে লিটনের ফ্ল্যাটের গল্প বেশী হয়।

: তা যাই বলিছ, সজলকে তোর ফিরিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। ওর মতো ছেলে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

: আমার আব্বু কে দেখেছিস?

:হুমমম। আংকেল অনেক স্মার্ট ও সুদর্শন।

: কিন্তু আমার মায়ের কাছে সব সময়ই বাবা একজন অতিসাধারন। সারাক্ষণ মা জারীর উপর রাখে। এখন বড় হয়েছি তো মায়ের কথার মিনিং বুঝি। তাই সুদর্শন পাত্রের প্রতি আমার লোভ কম।

: কি বলিছ! আংকেল কি.... (লজ্জায় থেমে যায়)

: তোর থেমে যাওয়া প্রশ্নের মানি আমি বুঝেছি। মা হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী তৃপ্ত না, বা চাওয়া পাওয়ার ব্যবধান বিস্তর। তাই  খিটখিটে মেজাজ নিয়ে বাবাকে সব সময়ই অশান্তিতে রাখে।

: এটা আন্টি ঠিক করে না। আংকেল অনেক ভালো এবং কতো সুন্দর একটা মানুষ।

: আমি মাকে যতোটা বুঝেছি তাতে আমি সজলের চেয়ে আমাদের কলেজের সুঠাম দেহী সুমনকে বেশি পছন্দ করি।

: সুমন!! ঐ বডি বিল্ডার আর কালো ছেলেটা?

:হুমমম কালো ছেলেটা আমার পছন্দ

:তোর রুচী এতো বিচ্ছিরি আগে জানতাম না।

:এটা রুচীর ব্যপার না সুমী, এটা চাহিদা আর যোগানের সামঞ্জস্যের ব্যপার। সুদর্শন বয় যখন চাহিদার সাথে যোগান দিতে ব্যর্থ হবে তখন তুমি মানসিক রোগী হবে অথবা বিকল্প সাপোর্ট এর জন্য হন্যে হয়ে যাবে।

: তোর কথার আগা মাথা বুঝি না।

: বুঝবি একদিন বুঝবি, সেদিন আফসোস করে এই পল্লবীর কথা বলে কাঁদবি।

:ওতো বোঝার দরকার নেই। কালো পোলা আমার চলবে না।

: তাহলে সজলকে তুই প্রপোজ করে ফেল।

: আমি তোর মতো অতোটা আকর্ষণীয় হলে বসে থাকতাম না।

কাদের সাহেব রাতে খেয়ে শুয়ে আছেন। স্ত্রী জমিলার জন্য অপেক্ষা করছেন। জমিলা বেগম ড্রয়িং রুমে বসে টিভিতে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল দেখছেন।

কাদের সাহেব এপাশ ওপাশ করছেন। চোখে ঘুম আসছে না। স্ত্রীর সান্নিধ্য চাচ্ছেন। ছুটির রাত একটু রোমান্টিক হবার চেষ্টা করছেন।

ঠিক বারোটারও পরে জমিলা বেগম এসে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লেন। কাদের সাহেব ঘুরে স্ত্রীর শরীরে হাত দিলেন। একটু আদর করার বাহনায় কাছে টানতে চাইলেন।

: খবরদার ধরবে না। আমার গরম না লাগতে লাগতে তোমার শীত লেগে যায়, এমন রোমান্টিক খেলা এখন আর উদ্বেলিত করে না। এর চেয়ে ঘুম দাও ভালো হবে।

: তুমি কিন্ত স্বামীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করছো, পাপ হচ্ছে 😭

: আর তোমার বুঝি খুব পুণ্য হয়। আমার অধিকার সম্পর্কে কি তোমার এই একুশ বছরেও ধারনা হয়নি?

: দেখো তুমি এই শেষ বিকেলে এসে রঙ্গিন দিনটার ললাটে কলংকের তীলক এঁকে দিচ্ছো ।

: তুমি কোন সকালে সুখের রঙ্গিন ফুল দিয়েছিলে?

: যতোটা পেরেছি উজার করে দিয়েছি। কোন কিছুর অপূর্ণতা তো রাখিনি।

:তোমরা ছেলেরা শুধু অর্থ, গাড়ি আর বাড়িতে পূর্ণতা খোঁজো। এর বাইরেও একটা চাহিদা আছে, সেটার দিকে নজর দাও না। সতের বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে, কিছু বোঝে উঠার আগেই পল্লবী কোলে এসেছে। এর চার বছর পর পল্লব এলো। এদের লালন পালন আর বড় করতে গিযে নিজের অনেক কিছুই বিসর্জন দিয়েছি। আজ ওরা বড়, নিজেদের কাজ নিজেরাই করতে পারে, আমার অবসর। বয়সতো মোটে পয়ত্রিশ। এই বয়সে এখন অনেকে এক বাচ্চার মা।

: জমিলা আমি তো কম করছি না। কোন কিছুতেই অপূর্ণতা রাখছি না। তোমাকে বিয়ে করেতো অযত্ন করিনি ।

: যত্ন কি বোঝার আগেই তো অন্যদের যত্নের ভার দিয়ে নাক ডেকে ঘুমানোর অভ্যাস করে ফেললে।

: তাই তো এখন আবার আদরে যত্ন করতে চাই।

: হা হাহাহা, এখন যত্ন মনে হয় না, যন্ত্রণা মনে হয়। এখন খেলা বুঝি তো! তোমার টি-টুয়েন্টি পছন্দ হলেও আমার একদিনের ম্যাচ পছন্দ।

কাদের সাহেব আবারও জমিলাকে পাশ ফেরাতে ব্যর্থ হলেন। বালিশ থেকে মাথা তোলে জমিলার মুখের দিকে তাকালেন। জমিলার গাল বেয়ে অশ্রু গলে পড়ছে। কাদের সাহেব হাত দিয়ে মুছে আলতু করে চুমু খেলেন। জমিলা মুহূর্তে অভিমান ভুলে সোজা হয়ে শুয়ে স্বামীকে বুকে টেনে নিলেন।

==================
তারিখঃ ০৮/০১/২০১৯
সময়ঃ ২০:০৬ মিনিট।

-------------------------------------
নোট: গল্পটা আমার কল্পনার শাব্দিক প্রকাশ। কারো সাথে মিলে গেলে আন্তরিক দুঃখিত। পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

কবিতা: প্রতিবাদের ইচ্ছা

প্রতিবাদের ইচ্ছা
মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

ইচ্ছে করে সমাজটারে
দাঁত ফেলে দিই চড়ায়ে,
বিশ্বটাকে ধাক্কা মেরে
আর একটু দিই নড়ায়ে।

ধর্ম নিয়ে ভণ্ডামিতে
নাচে যারা খুশিতে,
ইচ্ছে করে শিক্ষা দিতে
নাক ফাটাই এক ঘুষিতে।

কোন বিধাতা বিশ্ব চালায়
কোথায় থাকে লুকায় সে?
ধনি কেন লালন করে
গরিব কেন ধুকায় সে?

গরিব যখন পেটের ক্ষুধায়
কষ্ট পায় ওই  বস্তিতে,
কান্না শুনে কেমনে বিধি
লুকায় থাকে স্বস্তিতে?

ইচ্ছে করে ভেঙ্গে চুরে
 বিশ্বটাকে ফের গড়ি,
মানবতার প্রতিষ্ঠাতে
সমসঙ্গে আয় লড়ি।

ছোটগল্প: অমর ভালোবাসা

আমার লেখা একটা ছোটগল্প...যা পড়ে হয়ত আপনিও মুগ্ধ হবেন।

"অমর ভালোবাসা"
মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

মাত্র ১৫ দিন হলো রনি কানাডায় গিয়েছে। এরকম ভাগ্য কতজনের হয়! ১৫ দিনের মাথায়ই ইউরোপের সিটিজেনশিপ তাও আবার এক টাকাও খরচ করতে হয়নি। এদিকে মিথিলা অপেক্ষা করছে সাত দিন হলো রনির সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি।  আসলে সে হলো রনির গার্লফ্রেন্ড। ভালোবাসা যে কত গভীর আর ভালবাসার টান যে এত বেশি তা মূলত রনি আর মিথিলাকেই দেখলে বুঝা যায়। কিন্তু কানাডা যাবার পর থেকে সে মিথিলাকে তেমন পাত্তাই দিচ্ছে না। দেশ থেকেই মিথিলার কল আসলেই সে তার ব্যস্ততা আর কাজের চাপের বাহানা করে ফোন কেটে দেয়। কিন্তু সে তাতে বিন্দু পরিমানও রাগ করে না কারণ, সে ভাবতে থাকে হয়তো বিদেশে কাজের চাপে হয়তো সে তার সাথে এরকম আচরণ করছে।
সময় যত গড়াতে থাকে রনির আচরণও বদলাতে থাকে। দিনটি ছিলো বুধবার। বৃষ্টি হচ্ছিলো আর আকাশে মেঘের গুড়গুড় শব্দ। আসলে তার থেকে বড় ঝড় হচ্ছিল মিথিলার মনে। কারণ দীর্ঘ দুইমাস রনির কোন খোঁজ-খবর না পেয়ে সে এমবি কিনিছে রনির সাথে ইমোতে কল করার জন্য কিন্তু রনিকে অনেকবার ফোন দেয়ার পর সে কল রিসিভ করে এমন ভাব দেখাল যেন সে জীবনের প্রথম মিথিলা নামটি শুনেছে!
মিথিলার সাথে কি হচ্ছে সে নিজেও বুঝতে পারছিল না।
তবে কি সে স্বপ্ন দেখছে? না!
এসব বাস্তবেই ঘটছে। কথা বলার এক পর্যায়ে রনি বলল, আমি আদৌ কোনদিন তোমাকে ভালোবাসিনি।
আর আপনিও আর কোনদিন আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন না প্লিজ।
আই হেট ইউ আই হেট ইউ...
বলতে বলতে রনি ফোন কেটে দিল। আসলে সে কি কানাডায় গিয়ে তার অতীতের সকল কথা ভুলে গিয়েছিল?
সে কি তবে সত্যিই আমার সাথে নাটক করেছিল। তবে কি আমার ভালোবাসা মিথ্যে ছিল। এসব কথা ভাবতে ভাবতে মিথিলা রাতে এক সেকেন্ডের জন্যেও ঘুমাতে পারেনি।
পরেরদিন সে রনির সব ছলনা বুঝতে পেরে আল্লাহর কাছে বলতে লাগল হে খোদা- আপনি রনিকে এমন কোন রোগ দিন যাতে সে আমার মতো আর কোনো মেয়ের সাথে  ভালোবাসা নিয়ে ছলনা করতে না পারে।
এর তিন দিন পর মিথিলা জানতে পারল যে, রনির ক্যান্সার হয়েছে। আর তাও আবার তার রক্তে। যারজন্য তার বেশিদিন বাঁচার কোন চান্স ই নেই।
মিথিলা খবরটি শুনে এত আনন্দিত হলো যে সে মনে মনে সুবহান আল্লাহ বলে খোদার কাছে শুকরিয়া আদায় করল। এবং সে ভাবতে লাগল সত্যি তার ভাগ্য অনেক ভালো। আল্লাহ যাই করেন ভালোর জন্যই করেন।
যদি রনির সাথে তার বিয়ে হতো তাহলে আজ আমার কি হতো ?
এসব কথা ভেবে সে নিজেকে খুবই আনন্দিত মনে করলো।
দুইমাস পর...
আজ মিথিলার বিয়ের ৭ দিন হয়ে গেছে। তার জামাই একজন সরকারী চাকুরীজীবী। অন্যদিনের তুলনায় তার স্বামী আজ একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলেন। ফ্যাকাশে মুখে কি যেন চিন্তা করে অস্থির হয়ে আছেন মিথিলা স্বামী জহির। চিন্তার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার কলেজের বন্ধু রনি হাসান আজ সকালেই কানাডায় মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন...
খবরটি শুনে মিথিলা মনে মনে  মুচকি হাসে। তারজন্য এটা তো দারুণ সুখবর।
সে ভাবে, আজ যদি সে রনির স্ত্রী হত তবে মাত্র কিছুদিনের মাথায় সে বিধবা হয়ে যেত।

একদিকে মিথিলা রনিকে ঘৃণা করে অন্যদিকে মিথিলার স্বামীর খুব ভালো বন্ধু ছিল রনি। একদিন রাতে কোন এক কথার জের ধরে মিথিলা তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা বলতো তোমার বন্ধু রনি কেমন স্বভাবের লোক ছিল আই মিন ওর আচার-আচরণ। যার জন্য তুমি আজও সব সময় ওর কথাই বলো এবং তার জন্য তুমি আজও কাঁদ।
জহির কেঁদে কেঁদে বলে, রনি ছেলেটা ছিল অতুলনীয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ থেকে শুরু করে কোন ইবাদতই সে ফাঁকি দিত না। সে খুবই সাদাসিধে এবং সরল টাইপের ছেলে ছিল। কখনোও মিথ্যা কথা বলতো না কিন্তু; একবার সে বাধ্য হয়েছিল মিথ্যা বলতে। সেটা ছিল একটা মেয়ের সাথে তার সম্পর্কের কারণ। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। উন্নত জীবন এবং স্বপ্নকে বাস্তবের রূপ দিতে সে কানাডায় পাড়ি জমায় কিন্তু সেখানে পৌঁছাবার মাত্র ৭ দিন পর তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। আর ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা আজো আবিষ্কার হয়নি তাই নিশ্চিত মৃত্যু বুঝতে পেরে ডাক্তারদের পরামর্শে মাত্র ১৫ দিনের মাথায় তাকে কানাডা সিটিজেনশিপ দেয়া হয়। বিষয়টি যখন রনি জানতে পারলো যে, সে আর বেশীদিন এই পৃথিবীতে নেই তাই ভাবলো একটা নিষ্পাপ মেয়ের জীবন নষ্ট করে আমার কি লাভ?
তাছাড়া সে স্পষ্ট জেনে গেছে সে আর বেশীদিন সুন্দর পৃথিবীতে থাকবে না। আর সে এটাও বুঝে গেছে তার স্বপ্ন আজীবন স্বপ্নই থেকে যাবে। তাই যাকে সে তার জীবনের সবথেকে বেশি ভালোবাসতো সেই মেয়েটির সাথে সে এমন আচরণ করে, যাতে মেয়েটি তাকে ঘৃণা করে এবং চিরতরে তার জীবন থেকে চলে যায়। পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছিল এরকমটি করার জন্য।  তুমি কি তাকে ভুল বুঝে এবং তার জীবন থেকে চিরতরে চলে যায়।
রনির একটাই চাওয়া ছিল- সে যাকে পছন্দ করতো, ভালোবাসতো, সেই মানুষটি যেন সারাটি জীবন সুখ শান্তিতে থাকে। এসব শোনার পর মিথিলা অজ্ঞান হয়ে যায়। এবং যখন তার জ্ঞান ফিরে সে বুঝতে পারে তার অভিশাপের কারনে রনির ক্যান্সার হয় নি বরং; অভিশাপের মতো আচরণ করেই রনি তার জীবন থেকে এভাবে ফাঁকি দিয়ে চলে গিয়েছিল না ফেরার দেশে...

কবিতা: কেন আমি অপরাধী

কেন আমি অপরাধী
-------মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

কেন আমি অপরাধী
গড়েছে কে আজ আমায়,
সে নেতার হবে কি বিচার ?
এ মাটিতে এই বাংলায়।

লেখা পড়া শেষে কেন
চাকরি নাহি মিলে,
নেতার পদ ধূলি পেলে কেন
সবাই সালাম করে চলে ।

সাধ ছিল আশা ছিল
বাঁধব সুখের ঘর,
দশজন যেমন বাঁচে
নিয়ে আপন পর।

মেয়েদের চাকরি মেলে
ছেলেরা  দেশের বেকার,
হতাশায় নেশা করে
সংসার কত দেখ উজাড় ।

আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখ
পাখিরা কেমন উড়ে,
ডানাভাঙা পাখী দেখেছ কী কভু
তুষের আগুনে কেমন পোড়ে ?

নেতার কাজে  জিম্মি জীবন
বিক্রি আজ কত মন,
এদিকে ওদিকে খুনখারাবি
নেতার পথে নিত্য বিপণন ।

চেয়ে দেখ পিছে আমাকে দিয়ে
করেছে কে ক্ষমতার ব্যবহার ?
আজ সাধু সেজে প্রস্থে ও দিঘে
আমাকে সে চেনে না আর।

আগে নিজের ভুল স্বীকার করো
তারপর সমাজ সংসার,
তুমি না শোধরালে এমন অপরাধী
জন্মাবে এদেশে  বারবার।

ছোটো গল্প : স্বার্থপর

স্বার্থপর......... 

    মিনহাজউদ্দিন মন্ডল,

(রচনাকালঃ ২৮,০৮,২০১৮)

দিনটি ছিল আগস্ট মাসের ২৮ তারিখ, সূর্য উঠার পূর্বে মধ্য রজনীর জোছনায়
আকাশের বুক চিরে পৃথিবীর কোলে জন্ম নিল
এক টুকরো চাঁদ।
৯ টি মাস অনেক কষ্ট দিয়েছি মাকে
কিন্তু পৃথিবীর স্বাদ পেতেই
আমি শুধু মা এর নই, আমি বাবার, আমি দাদার, আমি নানার, আমি নানুর
কত নতুন পরিচয়ে আমি পরিচিত, কত নতুন নামে আমি চিহ্নিত
আমার একটি জাত আছে, একটি বংশ আছে
আমি শুধু মা এর নই, আমি কত শত পরিচয়ে পরিচিত
আমি খুবই স্বার্থপর.....................
আমার মুখের হাসি দেখে মা ভুলে গেছে তার যন্ত্রণার ৯ টি মাস
মা এর মুখে হাসি দেখে আমি ভুলে গেছি আমি মা এর নাড়ি ছেঁড়া স্পন্দন
আমি খুবই স্বার্থপর..................
প্রথম সন্তান ছেলে হবে এমনটাই কামনা ছিল সবার
দাদা দাদি মেয়ে হয়েছে বলে অসন্তুষ্ট
যদিও নাতনির মুখ দেখে অভিমান এর রেশ আর ছিলনা
অথচ, মা যখন বাবার সাথে অভিমান করত
আমি তখন বাবার সাথে চলে যেতাম দাদু বাড়ী
মা চোখের জলে আমার পথ চেয়ে থাকতো
আমি খুবই স্বার্থপর............
নানু বাড়ী বড় হয়েছি
তাই নানু, নানা, সবাইকে অনেক বেশি ভালোবাসি
চাচা ফুফুদের খুব সম্মান করি কিন্তু কতটা ভালোবাসি
বলতে পারবনা
আমি খুবই স্বার্থপর.........
স্কাউট করতাম বলে প্রিয় শিক্ষক আতিক স্যার
অনেক বকাবকি করত
বলত, তোমার পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে, এসব বাদ দিয়ে পরালেখায় মন দাও
তখন বুঝতে না পারলেও এখন বুঝতে পারছি স্যার কেন বলত
আমি অবাধ্য ছিলাম
আমি খুবই স্বার্থপর...............।
(রবীন্দ্রনাথ বলেছে, প্রথম যৌবনে বালিকা যাকে ভালোবাসে তাহার মত সৌভাগ্যবানও আর কেহই নাই। যদিও সে প্রেম ... অধিকাংশ সময় অপ্রকাশিত থেকে যায়, কিন্তু সে প্রেমের আগুন সব বালিকাকে সারাজীবন পোড়ায়”)
প্রেম এসেছিল নিরবে
অভিমানে বিলীন হয়েছে বিলাসী মন, অভিমানী যৌবন
আমি খুবই স্বার্থপর............।।
বিনে সুতোয় মালা সবাই গলে পরে, আমিও পরেছি
আজীবনের স্বপ্ন বুনেছি কৃষ্ণতলে
প্রতিটি স্বপ্ন এক একটি পদ্য, এক একটি গদ্য
কিন্তু বিদিশার নেশায় খসে পড়া তাঁরার মত মাঝে মাঝে
আমার স্বপ্নগুলো খসে পরে...............
আমি যুদ্ধ চাইনা, আমি শান্তি চাই
যদি চাইতাম, তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ তোমার সাথে আবার হত
কিন্তু সেই যুদ্ধের শান্তিচুক্তি কখনই হতোনা
কারন, আমি সত্যি বড় স্বার্থপর............।

Change your mentality by watching this information

আগে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, দেখেন বদলে যাবে গোটা পৃথিবী!

যদি.....
A, B, C, D, E, F, G, H, I, J, K, L, M, N, O, P, Q, R, S, T, U, V, W, X, Y, Z = 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10, 11, 12, 13, 14, 15, 16, 17, 18, 19, 20, 21, 22, 23, 24, 25, 26

অর্থাৎ A to Z এর মান যদি এমনভাবে ধরি যেখানে : A=1, B=2, C=3, D=4, E=5, F=6, G=7, H=8, I=9, J=10, K=11, L=12, M=13, N=14, O=15, P=16, Q=17, R=18, S=19, T=20, U=21, V=22, W=23, X=24, Y=25, Z=26

তাহলে....
Hard Work:
H+A+R+D+W+O+R+K= 8+1+18+4+23+15+18+11=98%

Knowledge:
K+N+O+W+L+E+D++E=
11+14+15+23+12+5+4+7+5=96%

Luck:
L+U+C+K=
12+21+3+11=47%

অর্থাৎ এদের কোনোটাই 100% স্কোর করতে পারেনা, তাহলে সেটা কী যা 100% স্কোর করতে পারে???

Money?? না, এটা 72%
Leadership?? না, এটা 97%

তাহলে??

সব সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব, যদি আমাদের থাকে একটা পারফেক্ট Attitude বা দৃষ্টিভঙ্গি
হ্যা, একমাত্র Attitude ই আমাদের জীবনকে করতে পারে 100% সফল......

A+T+T+I+T+U+D+E=
1+20+20+9+20+21+4+5=100%

সুতরাং দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে।