Tuesday, December 10, 2019

মানবিক চাপ : বেকারত্ব >>> মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

মাস্টার্স পাশ করা ২৬, ২৭ বছর বয়সী একজন যুবক-যুবতীকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরিতে যোগদান করতে হয়। আর পড়ালেখা না জানা ১০, ১২ বছর বয়সী একজন বাস হেল্পার এর দৈনিক হাজিরা প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, যা মাস শেষে ১৪, ১৫ হাজার টাকা হয়।

কেউ কোন ফ্যাক্টরীতে ২০ বছর কাজ করলে তার বেতন হয় লক্ষ টাকা, আর ২০ বছর পড়ালেখা করে যখন চাকরির জন্য যায়, তখন তার বেতন হয় ১০ হাজার টাকা। তাহলে আমরা কোথায় যাবো? স্কুলে না ফ্যাক্টরীতে?

হাজার হাজার - লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পড়ালেখা করে আজ শিক্ষিত মানুষগুলো পরিবারের, সমাজের এবং সবার কাছে অবহেলিত। রাষ্ট্র পড়ালেখা করার জন্য টাকা নিতে পারে। কিন্তু পড়ালেখা শেষ করার পর টাকা ফিরিয়ে দিতে পারেনা!

অনেকেই বলবে ভাল করে পড়ালেখা করলে, ভাল রেজাল্ট করলে ভাল চাকুরী পাওয়া যায়। আসলেই কি পাওয়া যায়? নাকি মোটা অংকের Donation দিতে হয়?

ভাল রেজাল্ট না করলে পাশ দেওয়া হয় কেন? রাষ্ট্র যদি শিক্ষিত মানুষের চাকুরী দিতে না পারে তাহলে রাষ্ট্রের উচিত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেয়া। তাহলে সন্তানদের পড়ালেখার জন্য বাবা মায়ের এতো কষ্ট করতে হতো না। টাকা গুলো সঞ্চয় হতো।

চাকরির অভাবে পরিপক্ক হওয়া ছেলেটা ২৮ বছরেও বিয়ে করতে পারে না।অন্যদিকে বয়স বাড়তে থাকা অবিবাহিত মেয়েটাও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না। না পারছে তারা উপযুক্ত ছেলেকে বিয়ে করতে, না পারছে পাড়া-পড়শির খোটা সহ্য করতে। শুধু এক বুক নিঃশ্বাস ফেলে আফসোস করছে- এ দেশে জন্ম নেয়ার জন্য।

আমাদের অবস্থা আজ এমন দাঁড়িয়েছে যে, যেন গাধার দিকে তাকালে দেখতে পাই নিজের প্রতিচ্ছবি।

কবিতা : মুখোশ

                  কবি- মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

আমাদের রাষ্ট্রের
        এই হোক মূলনীতি
থাকবেনা আর এ দেশে
         কোনো ঘুস-দূর্নীতি।।

এই মূহুর্তে হোক
      সকলেই সোচ্চার
অপরাধী-অপকর্মকারী
       হয়না যেন পার।।

দূর্নীতির মূলোৎপাটন
       করতেই হবে এবার
 না হলে এ দেশটা হবে
         দূর্নীতির ভাগার।।

অবৈধ সম্পদের পাহাড়
           যারাই করেছে
মাথানত নিশ্চিত হোক
           আইনের কাছে।।

অপকর্মের মূল হোতারা
        সকলে হোক চিহ্নিত
তাদের মুখোশ খুলে দিতে
         হতে হবে ঐক্যবদ্ধ।।

Monday, December 9, 2019

ইসলামিক কবিতা : ইমাম মাহদী (আঃফাঃ)

                      কবি- মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

সবাই চলছে তো কেউ জানেনা কোথায়?
ছুটছে তো ছুটছে অচেনা-অজানায়।

দজ্জাল সগর্বে হাক মেরে আসছে।
তাকে ঠেকানোর কেউ কি সাজছে।

আড়াল থেকে কার যেন ছায়ারূপ দেখা যাচ্ছে।
সে যেন তেজদীপ্ত হুংকার দিয়ে নাচছে।

সর্বত্র সত্য-ন্যায়ের ব্যবধান বাড়ছে।
মানবতার শির হীম সাগরে মরছে।

ওরা নাকি সভ্যতার সমাজ গড়ছে।
তাদের কাজে দজ্জাল পর্যন্ত লজ্জা পাচ্ছে।

সবাই তো চলছে কোথায় যাবে সর্বত্র দৃষ্টিভ্রম হচ্ছে।
কানা দজ্জাল নাকি সিরিয়াতে আত্মপ্রকাশ করবে।

বেইমানের হবে রব দজ্জালের সৌরভ।
ঈমান বাঁচাতে হলে সূরা কাহাফ পড়।

পাহাড় সম ক্ষমতা নিয়ে দাজ্জালের আগমন হবে।
ইমাম মেহেদির আগমনে দাজ্জালের পতন হবে।

মৃত্যুপুরীর মৃত্যুবাণ শিখা জলবে অনির্বাণ।
যারা আছে ঈমানদার মানবে না ঐ ক্ষমতাবান।

ঘাড়ে বসে ওই ফাইজলামি মানবে না আর মুসলিম জাতি।
আসসালাতু ওয়া আসসালাম হে  ইমাম মেহেদী।

কবিতা : স্বপ্নের দেশে

                কবি- মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

আমি হবো ভোরের পাখি
মিষ্টি গানের সুরে,
কুহুকুহু ডালে ডেকে
যাবো অনেক দূরে।

দূরে গিয়ে ছন্দ তুলে
বলি ছড়ার পালা,
পথ হারিয়ে বনে বনে
নিয়ে বকুল মালা!

চন্দ্র দেশে যাবো আমি
কে যাবি ভাই সাথে,
সন্ধ্যা হলে চলে এসো
আমার বাড়ির পথে।

সূর্য মামা হাঁক পারিলে
আসবো চলে বেগে,
শীতের মাঝে মামা তখন
ওঠবে রেগে-মেগে!

গল্প হলো অনেক সময়
গল্প রাজার দেশে,
ঘুমের দেশে ছিলাম বুঝি
ঘুমের রাজা বেশে!

কবিতা : ভেজাল

                         কবি- মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

 ভেজালে ভেজালে দেখ
 ভরে গেছে দেশটা,
 যত চলে অভিযান
 রয়ে যায় রেশটা ।

 চাল-ডাল-তেলে ভেজাল
 নুন-চিনি-মুড়িতে,
 ঔষধ-পথ্যে ভেজাল
 সিঙ্গারা – পুড়িতে।

 ফল-মূল সবই ভেজাল
 দুধ-শিশু খাদ্যে,
 দেখ কিযে কান্ড-
 ভেজাল গান-বাদ্দ্যে!

 ছানা-দই-মিস্টি আর
 ভেজাল রুপা-সোনাতে,
 নতুন এক ভেজাল এলো
 চন্দ্রের দিন ক্ষণ গোনাতে।

 নেতা-নেত্রী সবই ভেজাল
 ভেজাল সব মতাদর্শ,
 দল কানা সব কর্মী সমর্থক
 জানেনা দলের কি আদর্শ !

 তন্ত্রে মন্ত্রে ভেজাল
 এমনকি শিক্ষক – ছাত্রে,
 বিয়েতে পাত্রী ভেজাল
 ভেজাল আছে পাত্রে।

 ভেজাল আছে কান্নায়
 আর হাসাহাসিতে,
 ভেজাল আছে আজকাল
 ভালোবাসাবাসিতে ।

 আজকের সংসার
 ভেজালেতে ভরপুর,
 দেহ একই বিছানায়
 মন রয় বহুদূর ।

 জনে আর মনে ভেজাল
 ভেজাল ভালোবাসাতে,
 এভাবেই বেঁচেথাকা
 এতটুকু আশাতে ! 
           ---------
 প্রকাশকাল: ২২/০৫/২০১৯

কবিতা : স্কুলের বন্ধু

                    কবি- মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

     অনেক দিনের পরে তোদের
         করছি খুবই মিস্,
      ফোন নম্বর থাকলে জানা
            একটু খবর নিস্।

     স্কুল থেকে কলেজ জীবন
          বন্ধু পেলাম যতো,
      তোদের মতো পাইনি আজও
           বন্ধু মনের মতো।

        স্কুলেরই গন্ডীটাকে
           পার করেছি যবে,
        ভাবিনি সেদিন সবাই এখন
            পর যে হয়ে যাবে।

       একসাথেতে ছিলাম সবাই
          পাঁচটি বছর ধরে,
        আজ বুঝেছি যেদিনটা যায়
            আর আসেনা ফিরে।

         একের পর এক ধাপ পেরিয়ে
             দশটি বছর পরে,
         এখন বুঝি বন্ধু তোরা
              ছিলি হৃদয় জুড়ে।

         শত চেষ্টা করেও আজি
            পাইনে তোদের খোঁজ,
         একটুখানি খোঁজ পেতে তাই
             নেট-টা চালাই রোজ।

          হারিয়ে তোদের আজ বুঝেছি
               ছিলি কতো দামী,
         বন্ধু হয়েই থাকব তোদের
              কথা দিলাম আমি।

Thursday, November 7, 2019

ভদ্রতার নিদর্ষণ: সকলকেই মেনে চলা উচিত

Edited By -- Minhajuddin Mondal

১. একটানা দু'বারের বেশি কাউকে কল করবেন না। যদি তারা আপনার কলটি গ্রহণ না করে,, তার অর্থ হল,, তারা হয়তো আপনার ফোনটির থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে ব্যাস্ত আছে।

২. কারো থেকে কিছু ধার করে থাকলে,, দ্বিতীয় ব্যক্তি চাওয়ার আগে তার ধার শোধ করুন। এতে আপনার কর্তব্যপরায়ণতা ও চরিত্র প্রকাশ পায়।

৩. কেউ যখন আপনাকে মধ্যাহ্নভোজ বা রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রন করে তখন,,কখনই মেনুতে ব্যয়বহুল খাবারটি অর্ডার করবেন না। সম্ভব হলে তাদের পছন্দমতো খাবারের অর্ডার করতে বলুন।

৪. কারো কথার মাঝখানে কথা বলে বাঁধা সৃষ্টি করবেন না। আগে মনযোগ দিয়ে শুনুন,, তারপর সময় নিয়ে উত্তর দিন।

৫. কেউ আপনাকে সহায়তা করলে তাকে ধন্যবাদ বলুন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।

৬. যখন কেউ আপনাকে তাদের ফোনে একটি ছবি দেখাতে চাইবে, তখন ফোনের বাম বা ডানদিকে সোয়াইপ করবেন না। কারন আপনি জানেন না এর পরে কি আছে। ...

৭. যদি আপনার কোনো বন্ধু আপনাকে বলে যে তার ডাক্তারের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, তবে তাদের কখনোই আ্যপয়েন্টমেন্ট এর কারন বা রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন না, শুধু বলতে পারেন,, আশা করি দ্রুত সুস্থ হও। যদি তারা এ বিষয়ে কথা বলতে চান, তবে তারা আপনাকে নিজে থেকেই বলবে। তাদের ব্যক্তিগত অসুস্থতা সম্পর্কে জানতে চেয়ে অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করবেন না ..

৮. অফিস কিংবা রাস্তায় একজন ক্লিনার কে ঠিক ততোটাই সম্মান দিয়েই কথা বলুন,, যতোটা আপনি আপনার অফিসের CEO কে দেন।

৯. দীর্ঘ সময় পরে কারও সাথে দেখা হলে,, তাদের বয়স এবং বেতন জিজ্ঞাসা করবেন না,, অবশ্যই যদি তারা এ ব্যাপারে কথা বলতে না চায়।

১০. রাস্তায় কারও সাথে কথা বলার সময় সানগ্লাসটি চোখ থেকে খুলে নিন। এটি শ্রদ্ধার নিদর্শন,, তাছাড়া চোখের যোগাযোগ বা আই কন্টাক আপনার বক্তব্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ...

ধন্যবাদ।